লাকসাম কালচারাল সেন্টারের বর্ষপূর্তি: চিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় মুখরিত

কুমিল্লা চট্টগ্রাম পরিবেশ বিনোদন শিক্ষা সারাদেশ
শেয়ার করুন...

​লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
শিশু-কিশোরদের সুপ্ত মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটিয়ে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার প্রত্যয়ে কুমিল্লার লাকসামে উদযাপিত হলো ‘লাকসাম কালচারাল সেন্টার’-এর বর্ষপূর্তি। এ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী চিত্র প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

​শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) লাকসাম উপজেলা অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক (নৃত্য বিভাগ) শিশির দত্ত।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা। তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ ও শারীরিক সুস্থতার জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চার কোনো বিকল্প নেই। নিয়মভিত্তিক শিল্পচর্চা নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। এ ধরনের উদ্যোগ লাকসামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

​

কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা কামাল হোসেন হেলাল, উপদেষ্টা বিশ্বতম সাহা বিশু এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক সেলিম চৌধুরী হীরা।
​
প্রধান উপদেষ্টা কামাল হোসেন হেলাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিশু-কিশোরদের অপরাধমূলক চিন্তা ও অসৎ সঙ্গ থেকে দূরে রাখে। লাকসাম কালচারাল সেন্টার শুরু থেকেই শিশুদের মাঝে সেই ইতিবাচক আলো ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছে।
​
উপদেষ্টা বিশ্বতম সাহা বিশু বলেন, আমাদের শিকড় ও ঐতিহ্যকে ধারণ করতে হলে নতুন প্রজন্মকে সংগীত, নৃত্য ও চিত্রকলার প্রতি অনুরাগী করে তুলতে হবে। অভিভাবক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সমন্বিত চেষ্টাই পারে একটি প্রগতিশীল প্রজন্ম উপহার দিতে।

​সাংবাদিক সেলিম চৌধুরী হীরা বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশুদের মোবাইল আসক্তি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমেই কেবল শিশুদের সুকুমার বৃত্তির সঠিক বিকাশ সম্ভব।
​
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, স্পোকেন ইংলিশ, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও মনোরম তবলা লহড়ির পরিবেশনা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের বিমোহিত করে। দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজন অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।


শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *