
লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসামে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শিক্ষা বিস্তার, নারীশিক্ষার প্রসার, সমাজসংস্কার ও মানবকল্যাণে অসামান্য অবদান রাখা ঐতিহাসিক মহীয়সী নারী নওয়াব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানীর ১২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) লাকসামে উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় জাদুঘরের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

দিনের শুরুতে সকাল সাড়ে ৮.৩০মিঃ লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগাঁওয়ে অবস্থিত নওয়াব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন লাকসাম উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় জাদুঘরের কর্মকর্তাবৃন্দ। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে সকাল ৯টার দিকে নওয়াব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানী বাড়ি জাদুঘরে এক দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এর পর নবাব ফয়েজুন্নেছা ও বদরুন্নেছা যুক্ত উচ্চ বিদ্যালযে কুইজ এবং রচনা প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলন চাকমা, লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলের শিক্ষিকা রাশিদা বেগম এবং লাকসাম উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলমসহ লাকসাম জমিদার বাড়ি জাদুঘরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা নওয়াব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানীর জীবন, কর্ম এবং নারী জাগরণে তাঁর অমূল্য ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বক্তারা বলেন, ১৮৩৪ সালে জন্মগ্রহণকারী নওয়াব ফয়েজুন্নেছা এমন এক প্রতিকূল সময়ে নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন, যখন নারীদের শিক্ষার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। তিনি শুধু নারীশিক্ষার পথপ্রদর্শকই ছিলেন না, বরং অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আজীবন জনকল্যাণমূলক কাজ করে গেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলোর সুফল আজও এই অঞ্চলের মানুষ ভোগ করছে।
১৯০৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করা এই মহান নারীর স্মৃতি সংরক্ষণ, তাঁর প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক স্থাপনা ও জমিজমার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শ তুলে ধরার ওপর জোর দেন সভায় উপস্থিত বক্তারা। নারীশিক্ষা, সমাজসংস্কার ও মানবকল্যাণে নওয়াব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানীর এই চিরভাস্বর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
