
মিন্টু ইসলাম শেরপুর বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের ফুলজোড় উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে হতাশা নেমে এসেছে। এ বছর বিদ্যালয়টি থেকে ৬৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ২৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৪০ জন। কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
এমন ফলাফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ পেয়েছে।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের বাসিন্দা ইকবাল হাসান রবিন বলেন, একসময় ফুলজোড় উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে বের হতো। তাদের অনেকেই বর্তমানে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে বিদ্যালয়টির ফলাফলের এমন অবনতি হয়েছে, যা পুরো ইউনিয়নের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক এবং ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে যথেষ্ট নিয়ম-শৃঙ্খলা না থাকা, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনাগ্রহ এর অন্যতম কারণ। অনেক অভিভাবক সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করানোর পর নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন না। সন্তান নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে কি না, পড়াশোনা করছে কি না—এসব বিষয়েও অনেকের তেমন নজরদারি নেই।
ইকবাল হাসান রবিন আরও বলেন, শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের শাসন করলে অনেক সময় অভিভাবকেরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এমনকি টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসা হয়। ফলে শিক্ষকদের পক্ষে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলার মধ্যে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সাময়িক আনন্দ-বিনোদনের জন্য নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা উচিত নয়। এখনো সময় আছে, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে ভালো ফলাফল করা সম্ভব।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়েও পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, যোগ্য ও শিক্ষাবান্ধব ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফল উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
ফুলজোড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও বিদ্যালয়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান ইকবাল হাসান রবিন। তিনি বলেন, ফুলজোড় উচ্চ বিদ্যালয় সুঘাটবাসীর গর্ব। বিদ্যালয়ের বর্তমান ফলাফলের চিত্র পরিবর্তনে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
