
সেলিম চৌধুরী হীরা:
প্রান্তিক মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত কষ্ট দূর করা আর প্রতিটি গ্রামকে আধুনিক সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক নগরী লাকসামে শুরু হয়েছে এক যুগান্তকারী পথচলা। কুমিল্লা-৯ আসনের বারবার নির্বাচিত প্রিয় জননেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের একক প্রচেষ্টা, নিরলস তাগিদ এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের সুফল পাচ্ছে লাকসামবাসী। সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে তাঁরই প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা ও আন্তরিক উদ্যোগে বিগত মাত্র ৭ মাসে লাকসাম উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে ৪৯টি চোখধাঁধানো উন্নয়ন প্রকল্প।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত এসব প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবর্তন এসেছে পুরো লাকসামের অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থায়। এলাকাগুলোর সাধারণ মানুষ বলছেন— জাতীয় সংসদ থেকে সরকারি যে বরাদ্দগুলো আসে, সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম তা সঠিক সময়ে ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে জনকল্যাণে কাজে লাগাচ্ছেন। তাঁর বলিষ্ঠ উদ্যোগ ছাড়া এত অল্প সময়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল না।
যেভাবে বাস্তবায়িত হলো এমপি মহোদয়ের স্বপ্নের প্রকল্পগুলো:
এমপি মো. আবুল কালামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও এলজিইডির প্রকৌশল বিভাগের নিখুঁত ব্যবস্থাপনায় লাকসামের ৮টি ইউনিয়নের ৭২টি ওয়ার্ড জুড়ে উন্নয়ন পৌঁছে গেছে:
প্রথম পর্যায়: জননেতা আবুল কালামের বিশেষ প্রচেষ্টায় অনুমোদিত ১৫ কোটি ৪ লাখ ৩১ হাজার ৫৯১ টাকা বরাদ্দে গড়ে উঠেছে ১২ হাজার ৬৩ মিটার নতুন টেকসই সড়ক।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়: সংসদ সদস্যের আন্তরিক তদারকিতে ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকারও বেশি বরাদ্দে প্রায় ১২ কিলোমিটার নতুন পথ পেয়ে রূপ বদলে গেছে লাকসামের একাধিক ইউনিয়নের।
চতুর্থ পর্যায়: ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
পঞ্চম ও ষষ্ঠ পর্যায়: প্রান্তিক মেঠোপথগুলোকে যাতায়াতযোগ্য করে তুলতে এমপি মহোদয়ের নির্দেশে ৮৮ লাখ টাকা বরাদ্দে বাস্তবায়িত হয়েছে আরও ২৬টি ক্ষুদ্র প্রকল্প।
উপজেলার বাকই দক্ষিণ, মুদাফরগঞ্জ উত্তর ও দক্ষিণ, গোবিন্দপুর, কান্দিরপাড়, উত্তরদা, আজগরা এবং পূর্ব লাকসাম (নরপাটি) ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে গ্রামে এখন যোগাযোগের এই সুবাতাস বইছে।
এমপি মহোদয়ের নির্দেশনায় উন্নয়ন কাজের শতভাগ স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বিশেষ তদারকি কমিটি। কাজের সার্বিক তদারকি ও অগ্রগতি নিয়ে সংসদ সদস্যের উন্নয়ন সমন্বয়কারী ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন মশু বলেন:
আমাদের প্রিয় নেতা, মাননীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম ভাইয়ের মূল লক্ষ্যই হলো লাকসামের কোনো গ্রাম বা ওয়ার্ড যেন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত না হয়। তিনি সরকারি বরাদ্দ এনে দেওয়ার পর আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন প্রতিটি কাজের সঠিক গুণগত মান বজায় রাখার। আমরা মাঠপর্যায়ে ঘুরে ঘুরে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন হওয়া নিশ্চিত করছি, যাতে জনগণের একটি টাকাও অপচয় না হয়। লাকসামকে একটি আধুনিক, উন্নত ও বৈষম্যহীন মডেল উপজেলায় রূপান্তর না করা পর্যন্ত এমপি মহোদয়ের নেতৃত্বে আমাদের এই পথচলা অব্যাহত থাকবে।
সংসদ সদস্যের এই উন্নয়ন যাত্রার প্রশংসা করে উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাদিকুল জাহান রিদান বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম মহোদয়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও প্রচেষ্টাতেই এই বিপুল বরাদ্দের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। লাকসামকে একটি আধুনিক মডেল উপজেলায় রূপান্তর করতে তিনি প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। এমপি মহোদয়ের ডিও লেটার ও ব্যক্তিগত তদারকির মাধ্যমে ইতোমধ্যে আরও নতুন বেশ কয়েকটি বহুমাত্রিক প্রকল্প অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা দ্রুতই আলোর মুখ দেখবে।
লাকসামের বুকজুড়ে আজ যে নতুন রূপান্তরের ছোঁয়া, তার পেছনে মূল কারিগর হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশংসায় এখন পঞ্চমুখ পুরো লাকসামবাসী।
