বগুড়ার শেরপুরে দাখিল-এসএসসি ফলাফলে চরম বিপর্যয়, দুই মাদ্রাসায় পাসের হার শূন্য

পরিবেশ রাজশাহী শিক্ষা শিক্ষা সাহিত্য সারাদেশ
শেয়ার করুন...

মিন্টু ইসলাম শেরপুর বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় এবারের দাখিল ও এসএসসি সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলার দুটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অন্যদিকে, মাধ্যমিক পর্যায়ে শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করে উপজেলার সেরা ফলাফলের শীর্ষস্থান দখল করেছে শেরউড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় কল্যাণী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে সাতজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। একইভাবে মধ্যভাগ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীর দুজনই অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠান দুটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
এ ছাড়া উপজেলার আরও কয়েকটি মাদ্রাসার ফলাফলও হতাশাজনক। বেলগাছি মুসতি দেওয়ান দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র দুজন। অন্যদিকে, মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র চারজন।

মাধ্যমিক পর্যায়েও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ছিল আশানুরূপ নয়। উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ভাদড়া উচ্চ বিদ্যালয় সর্বনিম্ন ফলাফল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
তবে এর বিপরীতে উপজেলার কয়েকটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভালো ফলাফল দেখা গেছে। শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করে শেরউড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ উপজেলার শীর্ষস্থান দখল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০০ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৯ দশমিক ২০ শতাংশ।
দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানভেদে এমন ব্যাপক পার্থক্য নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফলাফল অত্যন্ত খারাপ হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, “মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও অবহেলিত শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়। এ কারণেও ফলাফলে এর প্রভাব পড়ে।


শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *