
লাকসাম প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসামে আলোচিত অপহরণ মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে বিশেষ অভিযানে মামলার ২ নম্বর আসামি আল আমিন (২১)কে আটক করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে থাকা মামলাটির অগ্রগতি জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলীর নেতৃত্বে সেকেন্ড অফিসার এসআই মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ ও সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে গোবিন্দপুর এলাকা থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অপহরণের পর তাকে জোরপূর্বক আটকে রেখে যৌন নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন এবং মাদক সেবনে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে ১০ এপ্রিল প্রথমবার ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ এপ্রিল আবারও তাকে অপহরণের অভিযোগ করা হয়।
মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২৩ জুন দ্বিতীয় দফায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের সময় মামলার ২ নম্বর আসামি আল আমিন ৩০ হাজার টাকা গ্রহণের বিনিময়ে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন— পশ্চিমগাঁও এলাকার শাহাজাহান মজুমদারের ছেলে সুফিয়ান মজুমদার প্রকাশ শামীম (২২), গোবিন্দপুর গ্রামের ওবায়দুল হকের ছেলে আল আমিন (২১), পশ্চিমগাঁও এলাকার শাহাজাহান (৫৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজন।
লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী জানান, বিশেষ অভিযানে মামলার ২ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে মামলার বাদী ফারহানা মাহমুদা ঝর্ণা বলেন, প্রায় চার মাস ধরে তিনি তার মেয়ের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করছেন। তিনি জানান, গত ১৪ জুন বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করার পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তিনি ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
