পাউলিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ড্রেন নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনে স্বস্তি হাজারো কৃষকের

পরিবেশ রাজশাহী সারাদেশ
শেয়ার করুন...

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের পাউলি এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণ করায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধান হয়েছে। এতে আমনুরা-পাউলি এলাকার অন্তত পাঁচটি ফসলি মাঠের অতিরিক্ত পানি নির্বিঘ্নে খালের মাধ্যমে নদীতে চলে যাচ্ছে। ফলে স্বস্তি ফিরেছে কয়েক হাজার কৃষকের মাঝে।
স্থানীয় কৃষক, বাসিন্দা, কৃষি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাউলি এলাকায় নবাবগঞ্জ-আমনুরা সড়কের একটি কালভার্টের নিচ দিয়ে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে থাকা অন্তত পাঁচটি মাঠের বর্ষাকালীন অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশিত হয়। এতদিন এসব মাঠের কয়েক হাজার বিঘা জমির পানি ধানের জমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কালভার্টের নিচ দিয়ে বের হতো। এতে নিচু এলাকার জমিগুলোতে ধান চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হতো এবং পানি নিষ্কাশনে দীর্ঘ সময় লাগত।
পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কালভার্ট থেকে সরকারি খাল পর্যন্ত মাটির নিচ দিয়ে কংক্রিটের ঢালাই পাইপ বসিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা উমর ফারুক ব্যক্তিগত অর্থে এ ড্রেন নির্মাণ করেন। ড্রেন নির্মাণের ফলে এখন ফসলি জমির ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত না হয়ে সরাসরি পাইপের মাধ্যমে সরকারি খালে গিয়ে পড়ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে একই পরিমাণ পানি নিষ্কাশন হতে ৭-৮ দিন পর্যন্ত সময় লাগত। ফলে মাঠের নিচু অংশের ধানের জমি পানিতে তলিয়ে থাকত এবং অনেক সময় ধান নষ্ট হয়ে যেত। বর্তমানে ড্রেন নির্মাণের পর মাত্র ৩-৪ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত পানি নেমে যাচ্ছে। এতে ফসলের ক্ষতি কমার পাশাপাশি দ্রুত জমি চাষাবাদের উপযোগী হচ্ছে।
কৃষকরা আরও জানান, এই কালভার্টের নিচ দিয়ে আমনুরা সংলগ্ন অন্তত পাঁচটি মাঠের পানি নিষ্কাশন হয়। আগে দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমির ওপর দিয়ে পানি যাওয়ায় নিচু এলাকার কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ড্রেন নির্মাণের কারণে হাজারো কৃষকের পানি নিষ্কাশন সমস্যা অনেকটাই সহজ হয়েছে।
কৃষি উদ্যোক্তা উমর ফারুক বলেন, “আমি নিজেও একজন কৃষক। কালভার্টের উত্তরে ও সরকারি খালের মাঝের জমিটুকু চাষাবাদ করে তেমন লাভ হতো না। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় ফসলও ফলতো না। তাই জায়গাটি ভরাট করে ফলবাগান করার উদ্যোগ নিই। তবে উঁচু জমির অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি বিবেচনা করে কৃষকদের সুবিধার জন্য মাটির নিচ দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করেছি। এতে প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন সবসময় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে এবং ওপরের জমিও ফসল চাষের উপযোগী করা সম্ভব হয়েছে। কৃষকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই ব্যক্তিগত অর্থে এ উদ্যোগ নিয়েছি।”
ঝিলিম ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, “কালভার্টের সঙ্গে নির্মাণ করা ড্রেনটি দিয়ে নিয়মিত পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। আগে ফসলি জমির ধানের ওপর দিয়েই পানি নামত। এখন তা ড্রেনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ড্রেন নির্মাণে কোনো সমস্যা হয়নি; বরং ব্যক্তিগত খরচে নির্মিত ড্রেনের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই পানি নিষ্কাশন হচ্ছে।” স্থানীয় কৃষকদের মতে, বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনের এই ব্যবস্থা আরও কার্যকরভাবে চালু রাখা গেলে পাউলি ও আমনুরা এলাকার ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষকরা আরও বেশি উপকৃত হবেন।


শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *