মনোহরগঞ্জে দেড় কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

কুমিল্লা চট্টগ্রাম পরিবেশ সারাদেশ
শেয়ার করুন...

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৮নং খিলা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের হাতিয়ামুড়ি হাজী শহিদ উল্লাহ বাড়ি থেকে হাতিয়ামুড়ি উত্তরপাড়া হয়ে মেল্লা উচ্চবিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও পাকাকরণের অপেক্ষায় রয়েছে। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ইট-খোয়া উঠে গিয়ে কাদামাটিতে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। শুকনো মৌসুমে ধুলাবালুর কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এই সড়কের পাশেই রয়েছে একটি হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসা, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি এতিমখানা এবং মেল্লা উচ্চবিদ্যালয়। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এই পথ ব্যবহার করেন। স্থানীয়দের দাবি, বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের অনেকেই কাদার কারণে স্কুলে যেতে হিমশিম খান। রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচলেও নিয়মিত সমস্যার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি পাকাকরণের জন্য আগে টেন্ডার হওয়ার কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত কাজ বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন করে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
এই সড়কটি শুধু একটি গ্রামের নয়; আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। তাই দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ করা হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করেন। সড়কের বর্তমান অবস্থা দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও সংস্কারের অভাবের ইঙ্গিত দেয়। তবে সড়কটি কেন এখনো পাকাকরণ হয়নি, টেন্ডারের অগ্রগতি কী এবং ভবিষ্যতে কী পরিকল্পনা রয়েছেএ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয়দের একটাই দাবিদ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে সড়কটি পাকাকরণ করা হোক, যাতে প্রতিদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পান হাজারো মানুষ। এটি কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এতিমখানা এবং আশপাশের হাজারো মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। এখন এলাকাবাসীর চোখ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে কবে শুরু হবে সড়কটির উন্নয়নকাজ, আর কবে শেষ হবে এই দীর্ঘ অপেক্ষা।

Share this news as a Photo Card


শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *