
এম আর সজিব সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের দিরাই রফিনগর ইউনিয়নের খাগাউড়া গ্রামের নারীরা বাদুরের মাংস খায় উল্লেখ করে বেসরকারী টেলিভিশন কতৃক সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকেল ৪ টায় রফিনগর ইউনিয়নের খাগাউড়া গ্রামের শিব মন্দিররে পাশে খাগাউড়া কান্দাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ২য় বারের মত এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ অক্টোবর২০২৫ ইং রোজ( শনিবার) বিকেল ৪টায়
গীতিকার সুরকার মুকুল আচার্য এর সভাপতিত্বে ও সত্য তালুকদারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন রফিনগর ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান শৈলেন্দ্র কুমার তালুকদার, রফিনগর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক অমরেন্দ্র বিশ্বাস, পঞ্চায়েতের বিচারক নিখিল তালুকদার, দ্বিজেন্দ্র মজুমদার, ভুপেন্দ্র তালুকদার, নিখিল তালুকদার প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হৃদি রঞ্জন তালুকদার, মুক্তি যোদ্ধা দেবেন্দ্র তালুকদার, গীতিকার সুরকার মুকুল আচার্য, শিক্ষক পরিমল তালুদার,শিক্ষক প্রণয় তালুকদার, উপেন্দ্র তালুকদার, রফিনগর ইউনিয়নের পরিষদের বর্তমান মহিলা সংরক্ষিত সদস্য দুলালী তালুকদারসহ আশপাশের ৩ গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক মানুষেরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন রপিনগর ইউনিয়ন একটি ঐতিহ্য বাহী ইউনিয়ন। যে ইউনিয়নে ৪৭ জন মুক্তি যোদ্ধা রয়েছেন”অনেক সুনামধন্যকারী শিক্ষক রয়েছেন। যে ইউনিয়নে রয়েছেন উচ্ছ ডিগ্রি অর্জনকারী সেই গ্রামের মানুষ বাদুরের মাংস খায় এমন তথ্য মিথ্যা ও বিত্তিহীন। এই ইউনিয়নে শত বছর ধরে খাগাউড়া গ্রামে একটি শিব মন্দির রয়েছে যার চারপাশে বড় বড় উচু গাছ রয়েছে, যেই গাছে কলা বাদুরের ঝাঁক থাকে দিনের বেলায় তা দেখা যায়। এর মানে এই নয় যে গ্রামবাসী কলা বাদুরের মাংস খায় ? যা সময় টিভিতে উদেশ্য প্রনোদিত ভাবে হ্যায় প্রতিপন্ন করার জন্য? গ্রামের মানুষকে দেশবাসীর কাছে ছোট করার জন্য? মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করা হয় বলে মানববন্ধনে বক্তরা জানান। সময় টিভির ঐ কাল্পনিক সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে সঠিক সংবাদ প্রকাশের জন্য জেলার অন্যান্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। সময় টিভির কতৃ’পক্ষ পুণরায় বিবৃতি দিয়ে সত্য সংবাদ প্রকাশ করবেন এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন শতাধিক গ্রামবাসী। জানা যায় কয়েকদিন আগে সময় টিভির সংবাদে “ঔষধ হিসেবে বাদুরের মাংস খান নারীরা “শিরোনামে একটি ভিডিও নিউজ আপলোড হয়, যা রফিনগর ইউনিয়নের খাগাউড়া গ্রামের নারীদের উদ্দেশ্য করে মানহানিকর একটি নিউজ করা হয়েছে এমনটাই ধারনা গ্রামের সকলের। শুধু তাই নয় সময় টিভির জেলা প্রতিনিধির শশুর বাড়ির আঙ্গীনায় বড় বড় গাছে বাদুরের ঝাঁক দেখা গেলেও বাদুরের মাংস খান গ্রামের মানুষ এমনটির সঠিক তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। বরং এটি একটি হাস্যকর সংবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়? সময় টিভির মত সুনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠান সঠিক তথ্য না জেনে তাড়াহুড়ো ভাবে এমন সংবাদ প্রকাশ করেছেন দেখে হতভঙ্গ হয়েছেন সুশীল সমাজের লোকজন। তাছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডঃ জসিম উদ্দিন বলেছেন বাদুরের মাংস খেলে নানান ক্ষতিকর ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা বেশি? কিন্তু সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে গত ১০ বছরেও বাদুরের মাংস খাওয়া রোগীর দেখা বা সন্ধান মেলেনি বলেও দাবী করেন মানববন্ধনে উপস্থিত জনতা। যার কারনে সময় টিভির প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদেই এই মানব বন্ধন করেন তারা। গ্রামবাসীর দাবী দ্রুত সময়ের মধ্যে সময় টিভির পেইজ থেকে ঐ সংবাদ ডিলেট করে সংশোধনীয় সংবাদ প্রকাশের দাবী জানান তারা, অন্যতায় সময় টিভির প্রতিনিধির বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবেন বলেও হুশিয়ারি দেন উপস্তিত মানব বন্ধনে বক্তারা ।###
