
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (BTCL)) একটি মেগা প্রকল্প ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পূর্ববর্তী সরকারের সময় অনুমোদিত প্রায় ৩২৬ কোটি টাকার একটি বিতর্কিত প্রকল্প বাতিল না করে সেটি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের নির্দেশনা অমান্য করে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ে বিদেশ সফর, তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বিপুল পরিমাণ যন্ত্রপাতি দেশে আনার মতো কর্মকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতার কথা বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। এমনকি দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত থামাতে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুর্নীতি দমন কমিশন) চিঠি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় প্রশাসনিক বিষয় নিয়েও তার নাম আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, লাকসামের একটি ছয়তলা মার্কেট বরাদ্দ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অনিয়ম না মানায় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদকে বদলি করা হয়। একই সময়ে উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা কাজী আরফিনা ওয়াহিদ এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার পর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট আইসিটি কর্মকর্তা ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের ঘনিষ্ঠতার সুযোগ পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় তদন্ত থেমে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন অফিসে অনুপস্থিত থেকেও সরকারি বেতন-ভাতা ও সুবিধা ভোগ করেছেন, যার আর্থিক পরিমাণ কোটি টাকার সমান হতে পারে। এমনকি তৈয়বের ক্ষমতার জাদুতে এখনো তিনি (আইসিটি কর্মকর্তা) বহাল তবিয়তে লাকসাম উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন।
অন্যদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের বিরুদ্ধে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে। অথচ তিনি ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে বিদেশ চলে গিয়েছেন।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে, উত্থাপিত এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার আদৌ সম্ভব হবে কি না। তবে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য এখনো কোন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।
