জটিল সিজারে আস্থা হয়ে উঠেছেন ডাঃ লিপিকা দাস

আরো পরিবেশ সারাদেশ সিলেট স্বাস্থ্য
শেয়ার করুন...

এম আর সজিব, সুনামগঞ্জ :
সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগের জটিল রোগীদের চিকিৎসা ও সিজারিয়ান অপারেশনে আস্থা অর্জন করেছেন প্রসূতি, স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাঃ লিপিকা দাস। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি হাসপাতালটিতে গরিব, হতদরিদ্রসহ সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাক ইউনিয়নের মুরাদপুর গ্রামের মোহাম্মদ মুসা আলমের স্ত্রী মোছাঃ আলেয়া বেগমের তৃতীয়বারের মতো সিজারিয়ান অপারেশন করেন ডাঃ লিপিকা দাস। এর আগে কয়েকজন বেসরকারি স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হলেও তাদের কথাবার্তায় রোগীর স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয় বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

পরবর্তীতে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ডাঃ লিপিকা দাসের পরামর্শ নেওয়া হলে তিনি রোগীর স্বজনদের আশ্বস্ত করেন। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা পরামর্শের পর একই দিনে আলেয়া বেগমের তৃতীয় সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। অপারেশন শেষে মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ রয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালের কেবিনে রাখা হয়েছে বলে স্বজনরা জানান।

এ ঘটনার খবর পেয়ে দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এম আর সজিব সদর হাসপাতালে গিয়ে রোগীর স্বজন ও অন্যান্য রোগীর অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন।
এক রোগীর স্বজন জানান, আমরা কয়েকজন চিকিৎসককে দেখানোর পর ডাঃ লিপিকা দাসের কাছে এসেছি। তাঁর চিকিৎসা ও রোগীর প্রতি আন্তরিকতায় আমরা সন্তুষ্ট।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও কয়েকজন রোগীর স্বজন রুকশানা, ফাহমিদা ও মো. আব্দুল জব্বার ডাঃ লিপিকা দাসের চিকিৎসাসেবার প্রশংসা করেন। তাদের ভাষ্য, সদর হাসপাতালে এ ধরনের দক্ষ ও আন্তরিক চিকিৎসক আরও বেশি প্রয়োজন। তারা বলেন, সুযোগ পেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ডাঃ লিপিকা দাসের অবদানের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানাবেন।

এ বিষয়ে ডাঃ রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালে জটিল জটিল সিজারিয়ান অপারেশন ডাঃ লিপিকা দাস করে থাকেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ডাঃ লিপিকা দাসের কাজ ও গুণাবলি সম্পর্কে শুনেছি, যা আমার ভালো লেগেছে। চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবার সহযোগিতা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নজরদারি থাকলে সাধারণ মানুষকে আরও ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও বর্তমানে রোগীর চাপ অনেক বেশি। প্রতিদিন ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত রোগী চিকিৎসা নিতে আসায় স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা চাপ তৈরি হয়। তবে সীমিত জনবল ও সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় রোগী ও স্বজনদের মতে, সরকারি হাসপাতালে সীমিত খরচে জটিল রোগীদের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রত্যাশা, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মান আরও বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে।

Share this news as a Photo Card


শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *