বগুড়ার শেরপুরে নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহার করে প্রিন্স সুপার আইসক্রিম তৈরি’ এক লাখ টাকা জরিমানা

আইন-অপরাধ আরো পরিবেশ রাজশাহী সারাদেশ
শেয়ার করুন...

মিন্টু ইসলাম শেরপুর বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে নিষিদ্ধ রাসায়নিক ও রং ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি এবং প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ছাড়াই শিশুখাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে ‘প্রিন্স সুপার আইসক্রিম’ কারখানার স্বত্বাধিকারী মো. শিহাব উদ্দিনকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের বাগড়া কলোনি এলাকায় অবস্থিত কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। জেলা প্রশাসন, বগুড়া ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বগুড়া কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে কারখানাটিতে আইসক্রিম তৈরিতে নিষিদ্ধ রাসায়নিক ঘনচিনি (সোডিয়াম সাইক্লামেট) এবং খাদ্যে ব্যবহারের জন্য নিষিদ্ধ রাসায়নিক রং ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিমের ‘কোন কাপ’ প্রস্তুত করতে দেখা যায়।
এ ছাড়া প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ছাড়াই শিশুখাদ্য হিসেবে আইসক্রিম উৎপাদন করা হচ্ছিল। কারখানার ফ্রিজে নিষিদ্ধ রাসায়নিক রং ও ঘনচিনি ব্যবহার করে প্রস্তুত করা বিপুল পরিমাণ আইসক্রিম পাওয়া যায়।
কারখানার স্বত্বাধিকারী মো. শিহাব উদ্দিন (৪৮) এসব অনিয়মের কথা স্বীকার করলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহরাব হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৯ ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। পরে জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
অভিযানে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ রাসায়নিকযুক্ত আইসক্রিম বিধি অনুযায়ী জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেল, দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক তাহমিনা আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সার্বিক নিরাপত্তায় জেলা পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করে।
কর্তৃপক্ষ কারখানার মালিককে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সব আইন, বিধি ও নির্দেশনা মেনে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার নির্দেশ দিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহার করে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *