
মিন্টু ইসলাম শেরপুর বগুড়া প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে বগুড়ার শেরপুরসহ জেলার ১১টি খালের পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলছে। ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় বাস্তবায়িত এ উদ্যোগে দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনরায় সচল করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলমান খননকাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কাজের মান, অগ্রগতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, শেরপুর উপজেলার ভদ্রাবতী-তিলকাতলা উপ-প্রকল্পে ভদ্রাবতী খালের ৬ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ চলছে। একদুলতলা খালের ১.৫ কিলোমিটার এবং চকরামপুর খালের ২.৫৩ কিলোমিটার অংশের কাজ প্রায় ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ঝাঝড় খালের ৫.৭৪৫ কিলোমিটার, কইগাড়ি খালের ১.৪৫ কিলোমিটার এবং দুদকুমড় বিলের খালের ১.৯ কিলোমিটার অংশের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড পৃথকভাবে ১ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করেছে।
অন্যদিকে আদমদীঘি উপজেলার বসনবুড়ি খালের ৮ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলার চিতলার খাল উপ-প্রকল্পের আওতায় চিতলার খাল, লোহার ব্রিজপাড় খাল, ব্র্যাঞ্চ খাল ও সংসারদীঘিপাড় খালের পুনঃখনন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া শেরপুরের মানিকের খাল এবং কোমরপুর-আদমদীঘি খালের কাজ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পুনঃখননের ফলে খালগুলোর পানি ধারণক্ষমতা বাড়বে। এতে বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সংরক্ষিত পানি সেচের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। ফলে কৃষকদের সেচ ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে খালের দুই তীরে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়ক হবে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, দীর্ঘদিন খালগুলো সংস্কার না হওয়ায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হতো। পুনঃখননের ফলে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তারা আশাবাদী। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে কাজের তদারকি হওয়ায় অনিয়মের সুযোগও কমেছে।
শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ জানান, ভদ্রাবতী খালের ৬ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ ৫৬ লাখ ৪ হাজার ৬৮২ টাকার চুক্তিতে চলছে। একদুলতলা ও চকরামপুর খালের কাজও পৃথক চুক্তির আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। ঝাঝড়, কইগাড়ি ও দুদকুমড় বিলের খালের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।
এলজিইডি বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, প্রতিটি প্রকল্পে নিয়মিত মাঠ তদারকি করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের নদী-খাল ও প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
