
সারা দেশে চলছে শৈত্যপ্রবাহ। কুয়াশা ও শীতল বাতাসের কারণে দেশের জনজীবন বিপর্যস্ত। এরই মধ্যে কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, বুধবার (৭ জানুয়ারি) দেশের বিভিন্ন বিভাগে তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে বিভিন্ন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। বুধবার সকাল ৬টার সময় রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।
কুয়াশার তথ্য জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে আবহাওয়াবিদ পলাশ লিখেছেন, আজ মঙ্গলবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত কুয়াশার চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে দেশের ৬১টি জেলার ওপরে (ফেনী, সিলেট ও সুনামগঞ্জ ছাড়া) কুয়াশার উপস্থিতি রয়েছে। সেই সাথে প্রায় সারাদিন রংপুর, রাজশাহী, খুলনা বিভাগের জেলাগুলো কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকার প্রবল আশংকা করা যাচ্ছে। দুপুর ১২ টার মধ্যে ময়মনসিংহ, ঢাকা বিভাগের পূর্ব ও উত্তর দিকের কোনো কোনো জেলা এবং চট্রগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কোনো কোনো জেলার উপরে সূর্যের আলো দেখা যাওয়ার অল্প কিছু সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট ছাড়া অন্য ৬টি বিভাগের জেলাগুলো মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়তে পারে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি ঘনত্বের কুয়াশার উপস্থিতি থাকতে পারে। বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ও খুলনা বিভাগের বেশিরভাগ জেলায় দুপুর ১২টার আগে সূর্যের আলো দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অন্য পাঁচ বিভাগের জেলাগুলোতে সকাল ১০টার পর থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে সূর্যের আলোর দেখা মিলতে পারে।
এছাড়া আজ সড়ক চলাচলে বিশেষ করে রংপুর-ঢাকা, রাজশাহী-ঢাকা, ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কের উপর দিয়ে চলাচল করা সকল যানবাহনকে গতি নিয়ন্ত্রণ করে খুবই সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন এই গবেষক।
এদিকে আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মাসে দেশের ওপর দিয়ে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। দেশের কোনো কোনো জায়গায় তাপমাত্রা নেমে আসতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত থেকে তাপমাত্রা ক্রমাগত কমতে পারে। আর চলতি মাসে ১ থেকে ২টি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
