সুনামগঞ্জে মূলধারার ৮৪ সাংবাদিককে বিএনপির ট্যাগ দিয়ে দেওয়া হয়নি নির্বাচনী পাসকার্ড

আইন-অপরাধ আরো করোনা আপডেট পরিবেশ সারাদেশ সিলেট
শেয়ার করুন...

এম আর সজিব সুনামগঞ্জ : নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক/গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য নীতিমালা ২০২৫ এর আওতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার ইস্যুকরন সংক্রান্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে বাড়াবাড়ি,অসদাচরন ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার বিরুদ্ধে। গত ২৬ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দেয়া গাইডলাইন মোতাবেক সুনামগঞ্জ জেলার আবেদনকারী সংবাদকর্মীদের নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত পাসকার্ড (পরিচয়পত্র) ও গাড়ির স্টিকার ইস্যু করতে গিয়ে পোষ্যদের প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি। তাঁর কাছে দায়েরকৃত একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত ৭ম শ্রেণি পাশের সংবাদকর্মী প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা তেঘরিয়া নিবাসী লতিফুর রহমান রাজু,ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা “র” এর এজেন্ট বলে পরিচিত পংকজ কান্তি দে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ পিআইসি সিন্ডিকেটের দালাল শাহজাহান চৌধুরীসহ গত ১৭ বছরের অতি সুবিধাভোগী ও তাদের সহযোগীদেরকেই সুবিধা দিয়েছেন তিনি। জেলা প্রশাসকের বক্তব্য থেকে জানা যায়,পাসকার্ড (পরিচয়পত্র) ও গাড়ির স্টিকারের জন্য ৩২৭ জন সংবাদকর্মী নিয়মানুযায়ী আবেদন করে। কিন্তু তার পোষ্যরা যাদেরকে সুপারিশ করেছে তিনি শুধু তাদেরকেই কার্ড দিয়েছেন। যাদেরকে তিনি কার্ড দেননি তাদেরকে তিনি বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত সাংবাদিক হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তঁকে বলতে দেখা গেছে,“আপনি ছাত্রদল কিংবা যুবদলের রাজনীতি করেন নির্বাচন প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য আপনাদেরকে দেইনি”। সাংবাদিদের সাথে তার উত্তেজিত হয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের একটি আংশিক গোপন ভিডিওতে তাকে বলতে দেখা যায়,“আপনাকে কেন দেইনি তা আপনিতো ভালো করে জানেন”। অর্থাৎ ঐ সাংবাদিক জেলা প্রশাসককে ৫নং বিবাদী করে মহামান্য হাইকোর্টে ১৯৩৬১/২০২৫ নং রিট পিটিশন মামলা দায়ের করলে উক্ত মামলায় তাঁর উপর রুল জারী হয়। তাই ক্ষুব্ধ হয়ে ঐ সাংবাদিককে তিনি বারংবার একইকথা বলে তিরস্কৃত করেন। সিলেট থেকে সম্পাদক সাহেব কল করার পরও কেন ঐ সাংবাদিককে কার্ড দেননি এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলে উঠেন “জগন্নাথপুরের সাংবাদিক আমি খুব কম চিনি”। ভাবেসাবে তিনি বুঝাতে চান তিনি বা তার চামচারা যাদেরকে চেনেন জানেন তারাই সাংবাদিক অন্যরা সাংবাদিক হলেও এরা ছাত্রদল কিংবা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, যুবদলের রাজনীতি করেন।
দোয়ারাবাজার থেকে হতাশা প্রকাশ করে এশিয়ান টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি এনামুল কবীর মুন্না তার নিজের ফেইসবুকে উল্লেখ করেন,সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণ কার্ড বিতরণকে ঘিরে সারাদেশে নানা অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই এর দায় জেলা প্রশাসনের ওপর চাপালেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন হতে পারে। বিভিন্ন মহলের মতে, এ ধরনের বিশৃঙ্খলার পেছনে নির্বাচন কমিশনের সমন্বয়হীনতা এবং স্থানীয় কিছু বিতর্কিত সাংবাদিকের ভূমিকা রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলার ঘটনাটি এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কিছু দলীয় পরিচয়ধারী ও বিতর্কিত সাংবাদিকের পরামর্শে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর ফলে জেলার অধিকাংশ পেশাদার ও দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত সাংবাদিক পর্যবেক্ষণ কার্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। যাদের ওপর পর্যবেক্ষণ কার্ড বিতরণের দায়িত্ব অর্পিত ছিল, তাদের অনেকেই গণমাধ্যমের বাস্তবতা, মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও পেশাগত মানদন্ড সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেননি এমন অভিযোগও উঠেছে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। শাল্লা উপজেলা থেকে এস টি সুজন উল্লেখ করেন,নির্বাচনী পাস কার্ড ও গাড়ির স্টিকারের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছিলাম। শাল্লায় সবার পাস কার্ড আসলেও আমারটা আসে নাই।
জেলা প্রশাসক বলেছেন,সাংবাদিকদের আবেদনগুলো গোয়েন্দাদের দিয়ে নাকি তিনি তদন্ত করিয়েছেন। কিন্তু কোন গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে তা সম্পন্ন করেছেন সেকথা বলেননি। “নির্বাচন প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য আপনাদেরকে দেইনি” ইত্যাদি বলে তিনি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন। আবার কায়দা করে সরিও বলেছেন। জেলা প্রশাসকের এই একচোখা নীতির কারণে ছাতক,দোয়ারাবাজার,জামালগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার
এবং জেলা সদরে দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার ও রাজধানী টিভি জেলা প্রতিনিধি এম আর সজিব,বাংলাদেশ বুলেটিন প্রতিনিধি মোশাররফ হোসেন লিটন,জাগরণী টেলিভিশনের এরশাদ মিয়াসহ আরো অনেকেই কার্ড পাননি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের বৈষম্যের শিকার হওয়া সাংবাদিকরা বলেন,জেলা প্রশাসক মব সৃষ্টি করে উদ্দেশ্যমূলক বানোয়াট ভিত্তিহীন তদন্তরিপোর্ট প্রেরণ করে সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার জেলা কমিটির সভাপতি জাতীয় দৈনিক খবরপত্র পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি আল হেলাল ও দৈনিক জনতা প্রতিনিধি আফতাব উদ্দিন এর জুলাইযোদ্ধা গেজেট বাতিল করলে তারা ঐ জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে পৃথক ২টি রিট পিটিশন দায়ের করেন। মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ প্রশ্নে বাধ্য হয়ে গুজব তকমার বিরুদ্ধে তারা আইনের আশ্রয় গ্রহন করেছেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক যে এত হীনমন্যতার অধিকারী,বদমেজাজী ও বদরাগী তা তারা কল্পনাও করেননি। তাদের বিরুদ্ধে ঐ জেলা প্রশাসকের অভিযোগ এরা নাকি ধানের শীষের কর্মী। বুঝলাম তারা ঐ জেলা প্রশাসকের পছন্দের নয় তাই তিনি তাদেরকে কার্ড দিবেননা ভালো কথা। কিন্তু সুনামগঞ্জের মূলধারার ৮৪ সাংবাদিককে বিএনপির রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে কেন দেওয়া হয়নি নির্বাচনী পর্যবেক্ষক কার্ড। আবার এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তির নির্বাচনী পর্যবেক্ষক কার্ড গ্রহণে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, আওয়ামীলীগ নেতা, জামাত নেতা,এমপিওভুক্ত শিক্ষকসহ সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা নাই নামমাত্র অনলাইন পোর্টাল দিয়েও নির্বাচনী পর্যবেক্ষক কার্ড গ্রহণ করা হয়েছে। এদের মধ্য গত ১৭ বছর যারা ফ্যাসিস্ট এর গোলামী করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম পঙ্কজ কান্তি দে,জামায়াত নেতা মাসুম হেলাল,শহীদনূর আহমদ,দোয়ারাবাজার উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন,কবি শহীদ,কোর্টের মহরী আব্দুল বাসিতকে কার্ড দেয়া হয়েছে। আবার ৬ মাসেরও সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা নাই এমন ব্যক্তিরাও নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ কার্ড গ্রহণ করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন ও যাচাই-বাছাই শেষে তাদের এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন তারা পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে সম্প্রতি সরকার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক একই সঙ্গে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত থাকতে পারবেননা। ওই নির্দেশনা প্রকাশের পর শিক্ষকদের অন্যান্য পেশাগত সম্পৃক্ততা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল পদধারীর নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, নির্বাচন কমিশনের বিধি-বিধান অনুসরণ করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে তা বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমরা যাদেরকে বাদ দেওয়ার মনে হয়েছে আমি তাদেরকে বাতিল দিয়েছি। এ ব্যাপারে আমি কোন বক্তব্য দিতে পারবোনা প্রয়োজন হলে আপনারা আমার বিরুদ্ধে নিউজ করেন।


শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *