লাকসামে মাদকাসক্ত চিকিৎসা কেন্দ্রের স্টাফকে অপহরণ ও লুট; সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে রক্ষা

আইন-অপরাধ আরো কুমিল্লা চট্টগ্রাম পরিবেশ সারাদেশ
শেয়ার করুন...

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার লাকসামে এক মাদকাসক্ত চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্মীকে আটক করে মুক্তিপণ দাবি ও লুটের অভিযোগ উঠেছে। তবে সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে অপহৃত ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

এই ব্যাপারে লাকসাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. রিয়াজ (২৭) কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার সরাবতী গ্রামের নূরু মিয়ার ছেলে। তিনি কুমিল্লাস্থ ‘স্বাগ্নীল’ মাদকাসক্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্টাফ হিসেবে কর্মরত।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি লাকসাম উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মজুর আলম (৩৫) নামের এক ব্যক্তি উক্ত প্রতিষ্ঠানে মাদকাসক্তি নিরাময়ের জন্য চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা শেষে তিনি ৭,৫০০ টাকা বিল বকেয়া রাখেন। বিল পরিশোধের কথা বললে তিনি পরিচালককে জানান যে, বর্তমানে তার কাছে টাকা নেই, তবে একজন স্টাফকে সঙ্গে দিলে বাড়িতে গিয়ে টাকা পরিশোধ করবেন।

পরিচালকের নির্দেশে গত ২ নভেম্বর ৩টার দিকে রিয়াজ মজুর আলমকে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লা থেকে লাকসামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। লাকসাম রেলওয়ে বাজার এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব থেকেই অবস্থানে থাকা মজুর আলমের সঙ্গীয় অজ্ঞাতনামা ৪–৫ জন রিয়াজকে ঘেরাও করে ছুরি ধরে জিম্মি করে। তারা তার কাছ থেকে ৫,৩০০ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন (মূল্য আনুমানিক ১৮ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয়।

এরপর তারা রিয়াজকে হুমকি দিয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সরোয়ার হোসেনের কাছে ফোন করতে বাধ্য করে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৩ লক্ষ টাকা দাবি করে।

রিয়াজের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি পরিচালককে ফোন করলে অপহরণকারীরা তাকে লাকসাম জংশনে আসার নির্দেশ দেয়। কিছুক্ষণ পর তারা রিয়াজকে একটি অটোরিকশাযোগে দূরবর্তী একটি অজ্ঞাত হোটেলে নিয়ে যায়।

এই সময় হঠাৎ করে দুইটি সেনাবাহিনীর টহল গাড়ি সেখানে আসতে দেখে রিয়াজ কৌশলে হোটেল থেকে বেরিয়ে সেনা সদস্যদের সংকেত দেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে সেনাবাহিনী রিয়াজকে লাকসাম থানা পুলিশের হেফাজতে হস্তান্তর করে এবং ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেয়।

এ বিষয়ে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সরোয়ার হোসেন জানান, আমাদের স্টাফ রিয়াজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত ভয়াবহ। সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ না হলে হয়তো প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।

এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।


শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *