ফরিদপুরে সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পুলিশের তল্লাশি, বিভিন্ন আলামত জব্দ সহ আটক – ৩

আইন-অপরাধ আরো ঢাকা পরিবেশ সারাদেশ
শেয়ার করুন...

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা,চিকিৎসা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ।
নগরকান্দা থানার এস আই গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ, এসময় তার বাসা থেকে বিপুল পরিমান ভাতা গ্রহিতার ফরম, ১৩টি মোবাইল ফোন ও মাদক সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের দ্বিতীয় স্ত্রী মুক্তা বেগম (৪৮) এবং তার দুই সন্তান আছিব ও তৈহিদকে থানায় আনা হয়।
জানা গেছে, নগরকান্দা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত সরকারি বিভিন্ন ধরনের ভাতা আত্মসাৎ করতে, প্রকৃত সুবিধাভোগিদের মোবাইল নম্বর গোপনে বাতিল করে, সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ তার বাসায় একাধিক মোবাইল ফোন ও সীম নম্বর ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করে থাকেন।
নগরকান্দা উপজেলার মাঠ বালিয়া গ্রামের লাইলি বেগম ও পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার খালিশপুটি গ্রামের হাসিনা বেগম জানান, নগরকান্দা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার বাসায় তারা কাজ করতেন। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে, সমাজ সেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ও পরিবারের সদস্যরা, সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে, তাদের কাছ থেকে ৪ টি ঘরের জন্য ২৫ হাজার করে মোট ১ লাখ টাকা নেয় এবং বিভিন্ন ভাতা করে দেওয়ার নামে ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা নিয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক ও নগরকান্দা থানা পুলিশকে জানালে, গত শনিবার (১৭ জুন) বিকালে নগরকান্দা পৌরসভার মিনারগ্রামের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন আলামত জব্দ করে পুলিশ।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ মুঠো ফোনে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আমার স্ত্রী ও তার সন্তানরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এসকল দুর্নীতির সাথে জড়িত না।

বাসায় তল্লাশির বিষয়টি নিশ্চিত করে রোববার সকালে নগরকান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, পুলিশ তার বাসায় অভিযান চালিয়ে, ১২২ টি ভাতা গ্রহীতা ফরম, ১৩টি মোবাইল ফোনসহ মাদক সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। এসময় সমাজ সেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে বাসায় না পেয়ে তার স্ত্রী মুক্তা বেগম ও তার দুই সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর ফরিদপুর কোর্টে পাঠানো হয়েছে।বিভিন্ন ভাতা ভুগীরা নিয়মিত ভাতার টাকা না পেয়ে ছুটে যান উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে। কর্মকর্তাকে এবিষয় জিজ্ঞেস করলেই বলেন নেট সাইবার, মন্ত্রণালয়ের ব্যপার, সহ নানান অযুহাত দেখিয়ে মাসের পর মাস কালক্ষেপনের মধ্য দিয়ে তাদেরকে হয়রানি করার পাশাপাশি সুবিধা ভোগীদের ভাতার টাকা কৌশলে সমাজসেবা কর্মকর্তার বিভিন্ন একাউন্টে পাচার করে। সহযোগীতায় ছিলেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই সন্তান। দ্বিতীয় স্ত্রী মুক্তা বেগম এর দ্বিতীয় সন্তান আছিব বলোন সমাজসেবা কর্মকর্তার ১২ কোটি টাকা লুটপাটের হিসেব আমার জানা আমি হিসাব দিতে পারব,প্রায় ১৫ হাজার ভাতা ভুগীদের টাকা আত্মসাৎ করার বিষয় আমার জানা,আমার কাছে একটি অফিসের কম্পিউটার ছিলো সেটি কয়েকদিন হয় অফিসে নিয়ে গেছে, ভাতার কাগজপত্র অনলাইন করে দিলে প্রতিটি বইর জন্য ২ শত করে টাকা দেয়।এছাড়া সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের বিভিন্ন স্হানে বাড়ি রয়েছে ও প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের দিয়েও এসব কাজ করায় বলে আছিব জানায়।সমাজসেবা কর্মকর্তার দ্বিতীয় স্ত্রী মুক্তা বেগম ভাতা ভুগীদের টাকা, সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ করে বলে শিকার করেন।অপরদিকে সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ নিজেকে অপরাধ দূর্নীতি লুটপাট আড়াল করতে তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের উপর দোষারোপ করছেন।অপরদিকে থানায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সঠিক ভাবে আমলে না নিয়ে কৌশলগত অভিযোগ দায়ের করে আদালতে প্রেরন করার অভিযোগ পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে দায়িত্ব পালন করায় এসকল অপকর্ম লুটপাট সরকারি টাকা লোপাট করার সুযোগ পান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ।


শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published.