পর্যটকদের জন্য দর্শনীয়স্থান বাচ্চুনগর পার্ক

আরো পরিবেশ বিনোদন ভ্রমন গাইড সারাদেশ সিলেট
শেয়ার করুন...

এম আর সজিব সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ঈদের ছুটিতে পাহাড় ও জলে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের নারায়ণতলা বাচ্চুনগর পার্কে দর্শনার্থীদের সমাগমে জমজমাট হয়ে উঠেছে। ভ্রমন পিপাসু যান্ত্রিক শহরের ক্লান্তি দূর করতে ভ্রমন করেন পাহাড় জলে ঘেরা বাচ্চুনগর পার্কে। ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে বিনোদন কেন্দ্রগুলো। এই পার্কে আগত দর্শনার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব‍্যবস্থাও করা হয়েছে। পিকনিক টিলার উপর চমৎকার বসার স্থান রয়েছে। পুকুরপাড়েও একাধিক বসার স্থান রয়েছে, সভা, সেমিনার, আনন্দ বিনোদনের উপযোগী স্থান হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছে এই বাচ্চুনগর পার্কে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত এই বাচ্চুনগর পার্কে সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য‍্য উপভোগ ও মনোরম পরিবেশে এবং নিরব নিস্তদ্ধ সময় কাটানোর এক অপূর্ব নিরাপদ স্থান। সীমান্তের এই পিকনিক টিলায় উঠে দুই দেশের সীমান্তে অবস্থিত ছোট-বড় পাহাড়-টিলা দেখে চোখ জুড়ানো ও প্রাণ জুড়ানো এক অনাবিল আনন্দে কাটানোর অন‍্যতম স্থান বাচ্চুনগর পার্ক। তার পাশেই রয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের গুচ্ছ গ্রাম। সেখানে বসবাস করছেন অনেকগুলো পরিবার। স্থানীয়রা জানান ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় দশ কেদার ভূমির মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে বাচ্চুনগর পার্ক। বাচ্চু মিয়ার নিজ মালিকানাধীন পতিত জমি থেকে মাটি উত্তোলন করে পার্কটিকে উচু পাহাড়ে পরিনত করা হয়েছে।

বাচ্চুনগর পার্কের নিয়মাবলীতে উল্লেখ করা হয়েছে, সীমান্তের নো-ম‍্যান্সল‍্যান্ডে যাওয়া যাবে না, কোনো নেশাগ্রস্ত ব‍্যক্তি প্রবেশ করা যাবে না, ইভটিজিং বা অশ্লীল আচরণ করা যাবে না। পিকনিক স্পটের ক্ষতি হয় এমন কাজ করা যাবে না, চলাফেরা বা কথা বলায় বন্ধু সুলভ আচরণ করা উচিৎ। বিকেল ৫ টার পর দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষেধ।অন‍্যথায় পিকনিক স্পট কর্তৃপক্ষ কঠোর ব‍্যবহার করতে বাধ‍্য হবেন।

শনিবার দুপুরে বাচ্চুনগর পিকনিক স্পটে স্বপরিবারে আগত ইংল‍্যান্ড প্রবাসী ও সংস্কৃতিকর্মী মুজিবুর রহমান বলেন, আমি বাচ্চুনগর পার্কে বেড়াতে এসেছি পরিবারের সদস‍্যদের নিয়ে। সীমান্তে ও সীমান্তের অপারের ছোট-বড় পাহাড়-টিলা দেখে পরিবারের লোকজন দারুণ খুশি হয়েছে। পরিবেশ ও খুব ভাল। সকাল থেকে এসে এখনও আছি ভাল লাগছে। তবে পার্কে প্রবেশের রাস্তাটি যদি একটু উন্নত করা হতো তাহলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা প্রতিদিনেই আসতো। সরকার যদি পার্কটির দিকে একটু সু-নজর দিত তাহলে বৃহত্তর সিলেট বিভাগের মধ্যে সর্বসেরা হতো বাচ্চুনগর পার্কটি। বাচ্চু মিয়া নিজেও একজন ভ্রমন পিপাসু মানুষ। উত্তর সুরমায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমে নিজেকে সর্বদাই নিয়োজিত রাখেন তিনি।

দর্শনার্থী হাজেরা খাতুন জানালেন, আমি দুই মেয়েকে নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ থেকে এসেছি। প্রথমে এসেছি সুনামগঞ্জ শহরতলীর সুরমা ভ‍্যালী ডিসি পার্কে। একজন বললেন, হালুয়ারঘাট থেকে সোজা বাচ্চুনগর পিকনিক স্পটে যাওয়া খুবই সহজ। তাই চলে এসেছি। বাচ্চুনগর না আসলে আমাদের জার্নি বৃথা যেতো। এখন আমরা সফল। একেবারে সীমান্তের কাছে এসে অনেক ছবি তোলেছি। দারুণ আনন্দিত আমরা।

সুনামগঞ্জ জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি বলেন, পরিবার নিয়ে যেতে ছিলাম হাসাউরা কিন্তু হালুয়ারঘাট এসে গাড়ি চালক বলল, বেড়াতে হলে বাচ্চুনগর যান। সে আমাকে নিয়ে বাচ্চুনগর আসলো। এখন দেখি ভালই লাগছে। এখানে এসে দিনের বেশিরভাগ সময় ভালই কেটেছে।

এ ব‍্যাপারে বাচ্চুনগর পিকনিক স্পটের পরিচালক সাবেক মেম্বার বাচ্চু মিয়া বলেন, উত্তর সুরমায় বিনোদন করার মত কোন স্থান নেই। তাই আমি আমার মালিকানাধীন ভূমির মধ্যে এই পার্ক নিমার্ণ করেছি। এটি নিমার্ণ করতে গিয়ে অনেক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তারপর সফল হয়েছি। দেশের মানুষের বিনোদনের কথা চিন্তা করে আমার ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে নিমার্ণ করেছি। এখন যদি সরকার বাহাদুর পার্কের রাস্তাটি নিমার্ণ করে দেন তাহলে পর্যটকরা সহজেই গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।
আমার পরিকল্পনায় আছে পার্ক টিলার উপরি অংশে এবং আশপাশে আরও দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা। প্রাকৃতিক ফুলে-ফলে ও গাছ-গাছালি দিয়ে সাজিয়ে তোলা। একই সাথে সিসি ক‍্যামেরা স্থাপন করা। তিনি বলেন, আমার পিকনিক স্পটে কোনো অপরাধমূলক কাজ করার সুযোগ নেই। দর্শনার্থীথের নিরাপত্তার স্বার্থে দিনে ও রাতে আমার লোকজন দায়িত্ব পালন করছেন।


শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published.