
মিন্টু ইসলাম শেরপুর বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুরে নির্বাচনী পথ সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ষড়যন্ত্র করে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে বঞ্ছিত করা হয়েছে আমাদের জোট ক্ষমতায় গেলে দেশ থেকে চাঁদাবাজি দখলবাজি টেন্ডারবাজি রাতারাতি বন্ধ করে দেয়া হবে এদেশের মানুষ চাঁদাবাজদের লাল কার্ড দেখিয়েছে এই লাল কার্ড আর সবুজ কার্ড হবে না আমরা সরকার গঠন করতে পারলে চাঁদাবাজদের হাতে কাজ তুলে দিব যাতে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা ওই ধরনের কোনো কার্ডের ওয়াদা দিচ্ছি না। দুই হাজার টাকা দিয়ে একটা পরিবারের কোনো কিছু সমাধান হবে না। আমার কাছে কোন কার্ড নেই। আপনাদের ভালোবাসার কার্ড চাই এবং কার্ডের পরিবর্তে আমরা মানুষের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই।
ড. শফিকুর রহমান বলেন, মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে বলতে চাই, এই উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দেওয়ার জন্য পাঁচটি বছর যথেষ্ট হবে। আমরা যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি, তাহলে উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে যাবে ইনশাল্লাহ। এই এলাকার মাটি উর্বর, এই এলাকা পিছিয়ে থাকার কোন প্রশ্নই উঠে না। ষড়যন্ত্র করে, বঞ্চিত করে, পিছনে রাখা হয়েছে।
শুধু বগুড়ায় নয়, বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন,পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ও ষাটোর্ধ বয়সের মানুষদের রাষ্ট্র ফ্রি চিকিৎসা ব্যবস্থা করবে। আমি বিশ্বাস করি আজকের জনসভায় শহিদ পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন, ২৪-এর জুলাই যোদ্ধা, ৭১-এর বীরেরা রয়েছেন। আমরা আপনাদের সকলের কাছে ঋণী। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে আমাদেরকে সন্মান করবো। দেশ সেবার সুযোগ পেলে, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে, আপনাদের ঋণ পরিশোধ করার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।
জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, দেশে ইনসাফ থাকলে দুর্নীতি ও টাকার পাচার হতো না। জনগণ এবার গণভোটে হ্যাঁ-কে জয়যুক্ত করতে মুখিয়ে রয়েছে। জামায়াত কারও কাছ থেকে চাঁদা নেবে না, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
জনসভায় মঞ্চে থাকা জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের জোটের প্রার্থী মাওলানা দবিবুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্র্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহবান জানান।ভোট ডাকাতদের কারণে বিগত ১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি এবং দেশের মানুষ নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চায় না উল্লেখ করে জনসভায় শফিকুর রহমান বলেন, আর এই দেশে ফ্যাসিবাদের ছায়াও দেখতে চাই না। ফ্যাসিবাদ এখন যদি নতুন কোনো জামা পরে আমাদের সামনে আসে, ৫ আগস্ট যে পরিণতি হয়েছিল, সেই নতুন জামা পরা ফ্যাসিবাদের একই পরিণতি হবে।
যারা নিজেদের দলের লোকদের চাঁদাবাজি, দখল–বাণিজ্য, মামলাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, পাথর মেরে লোক হত্যা, গাড়িচাপা দিয়ে লোক হত্যা থেকে বিরত রাখতে পারবে, তারাই জনগণকে আগামীর বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে। যারা এগুলো পারবে না, তারা যত রঙিন স্বপ্নই দেখাক, জাতি তাদের মতলব বুঝতে পারবে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ১০-দলীয় সমঝোতার জোটকে বিজয়ী করার মানে আধিপত্যবাদ, চাঁদাবাজ, দখলদার, ফ্যাসিবাদ, ব্যাংক ডাকাত, মা-বোনদের ইজ্জতের ওপরে যারা হাত দেয়, তাদের বিরুদ্ধে ‘হ্যাঁ’ ভোট যুবকদের দক্ষ করে তোলা হবে।
ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার। এমন বাংলাদেশ গড়তে ১০ দলের প্রতীকের পক্ষে সর্বশক্তি নিয়োগ করে গণভোটে হ্যাঁ এবং প্রতীকে হ্যাঁ দিতে হবে।
জামায়াত নারীদের সম্মানের জায়গায় রাখতে চায়। কর্মক্ষেত্রে তারা সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবে, তাদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। রাস্তাঘাটে তাদের চলাফেরায় নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করছে জামায়াত।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১১ ঘটিকায় স্থানীয় মহিপুর কলোনী খেলার মাঠে আয়োজিত শেরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা দবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মোস্তাফিধ নাসিমের সঞ্চালনায় শেরপুর ধুনট আসনের সদস্য সচিব ধুনট থানা জামায়াতের আমির প্রভাষক আমিনুল ইসলামের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে এ পথসভার সূচনা হয়।
উক্ত পথসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রিয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ আঃ হক, সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ মানছুরুর রহমান,ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রিয় ক্রিয়া সম্পাদক মোঃ হারুনুর রশিদ রাফি,ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোজাহিদ ফয়সাল, এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় সহ-মূখ্য সমন্বয়ক সাকিব মাহদী ,ও শেরপুর উপজেলার আহ্বায়ক সাংবাদিক আব্দুল আলিম, ১০ দলীয় জোটের আঃ রহমান সহ স্থানীয় ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
