এবার বরখাস্ত হওয়া চাখারের সেই ইউপি চেয়ারম্যান টুকুকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কারের দাবি

আইন-অপরাধ আরো বরিশাল রাজনীতি সারাদেশ
শেয়ার করুন...

রাহাদ সুমন,বানারীপাড়া(বরিশাল)
জাসদ নেতা হত্যা মামলার চার্জশীটভূক্ত আসামী বরিশালের বানারীপাড়ার চাখার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার পরে এবার আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কারের দাবি উঠেছে।
২৪ এপ্রিল সোমবার বিকেলে চাখার ইউনিয়ন আাওয়ামী লীগের এক জরুরী সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদ থেকে সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুককে বহিস্কারের এ দাবি জানানো হয়। চাখার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.মালেক হাওলাদারের সভাপতিত্বে স্থানীয় ডাকবাংলোয় অনুষ্ঠিত এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চাখার ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান খিজির সরদার,্উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও চাখার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সেলিম সরদার,সাধারণ সম্পাাদক ওযাহেদুজ্জামান মিলনসহ ইউনিয়ন ও ৯টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে চাখার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. মালেক হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদুজ্জামান মিলন জানান, জাসদ নেতা সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে হত্যার ঘটনায় দায়েকৃত মামলায় উপজেলা আওয়াামী লীগের সহ-সভাপতি ও নৌকার টিকিটে বিজয়ী চাখারের ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু চার্জশীটভূক্ত আসামী হয়ে চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ায় দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে।
এছাড়া সম্প্রতি চাখার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আ.মালেক সরদারকে লাঞ্চিত করাসহ বিভিন্ন সময় দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি/সম্পাদক বরাবরে সভার রেজুলেশনসহ লিখিত আবেদন জানানো হবে।
এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ গোলাম ফারুক বলেন, সৈয়দ মজিবুল ইসিলাম টুকুর বিরুদ্ধে চাখার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরে এ ব্যপারে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য,সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুকে ১ নম্বর আসামী করে জাসদ নেতা সৈয়দ হুমাযুন কবিরকে নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আদালতে পুলিশের অভিযোগপত্র (চার্জশীট ) দাখিলের প্রায় ১০ বছর পরে গত ১৮ এপ্রিল স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারি সচিব জেসমীন প্রধান স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে চাখার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে ইমেইল পাঠানো হয়। ওই পত্রে উল্লেখ করা হয় যেহেতু বরিশালের বানারীপাড়ার চাখারের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ২০ জুলাই বানারীপাড়া থানায় জাসদ নেতাকে হত্যা মামলা দায়ের ও একই বছরের ২৮ অক্টোবর তাকে ১ নম্বর আসামী করে বানারীপাড়া থানার অভিযোগপত্র বরিশাল বিজ্ঞ আদালতে গৃহীত হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় তার দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টি কোনে সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করে। সেহেতু বানারীপাড়ার চাখার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় বরিশাল জেলা প্রশাসকের সুপারিশে স্থানীয় সরকার আইনের ৩৪’র (১) ধারায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
প্রসঙ্গত,২০১৩ সালের ১৯ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে যাওয়ার পথে উপজেলা জাসদের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক রোজাদার সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দায়েয়কৃত হত্যা মামলায় চাখার ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুকে ১ নম্বর আসামী করে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হয় । দ্বিতীয় বারের মত ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সম্প্রতি চাখার ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও উপজেলা যুবলীগ নেতা মেজবাহ্ ্উদ্দিন সোহেল এ ব্যপারে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী এবং সচিবের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন। এর প্রেকিক্ষতে তাকে চেয়ার¤্রান পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ইউপি চেয়াররম্যান পদ থেকে টুকুকে সাময়িক বরখাস্ত করার পরে ্এবার আওয়ামী লীগ দলীয় পদ থেকে বহিস্কারের দাবি উঠলো। ্এদিকে সৈয়দ মজিবুল ই্সলাম টুকু গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে দলের সহ-সভাপতি হন । এর আগে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। জাসদ নেতাকে হত্যার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা ও চাজর্শীট দাখিল করা হলেও দলীয়ভাবে কোন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বরং পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে । যা স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদ নেতা-কর্মীদের ক্ষুদ্ধ ও মর্মাহত করেছে।


শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published.