সুনামগঞ্জে ইজারাবিহীন ধোপাজান নদীর বালি লুটতরাজের মহোৎসব : নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন

আইন-অপরাধ আরো পরিবেশ সারাদেশ সিলেট
শেয়ার করুন...

এম আর সজিব সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের ইজারাবিহীন ধোপাজান চলতি নদীতে গত তিন সপ্তাহ ধরে বেপরোয়া বালি পাথর লুটতরাজ চলছে। লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি কোম্পানী ধোপাজান চলতি নদী হতে ঠিকাদারী কাজে ভিট বালি উত্তোলনের জন্য বিআইডাব্লিউটি এর কাছ থেকে অনুমতি পেলেও ঐ কোম্পানীর আশ্রয়ে লুটতরাজ হচ্ছে সিলিকন ও খনিজ বালি। এলাকার লোকজন জেলা প্রশাসক,জেলা পুলিশ সুপার,সদর মডেল থানার ওসি,নৌপুলিশ টুকেরঘাট ফাড়ি,সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানানোর পরও বন্ধ হচ্ছেনা বালি পাথর লুটতরাজ। আওয়ামী লীগ আমলে তালিকাভূক্ত যেসব চোরাকারবারীরা এসব বালিপাথর লুটতরাজ করতো এখন খোলস পাল্টিয়ে বিএনপি সেজে তারাই নতুন উদ্যোমে বালিপাথর লুটতরাজে লিপ্ত হয়েছে। রাতের আধারে ড্রেজার মেশিন চালিয়ে নদীর পাড় কেটে বালি পাথর লুটতরাজে জড়িতরা হচ্ছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের হুরারকান্দা গ্রামের লায়েছ মিয়া,মোঃ সাচ্চু মিয়া,আমিন মিয়া,মুজিবুর রহমান,আনিস,মিরাজুল,খোকন মিয়া,মাহবুব আলম,মহিনূর,কবিরুল হক,আজিম উদ্দিন,জসিম উদ্দিন ও ফরহাদ মিয়া এবং মুসলিমপুরের ময়না মিয়া মনা,কামাল হোসেন ও আক্তার হোসেনগং। তারা লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং এর দোহাই দিয়ে সমগ্র ধোপাজান চলতি নদী এলাকা হতে বেপরোয়াভাবে খনিজ বালি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে মইনপুর গ্রামের ক্রাশার মেশিন মালিকেরা রাতের আধারে ডলুরা গ্রামের সামনে ধোপাজান চলতি নদী হতে লুটতরাজ করছে পাথর। বিজিবির স্থানীয় নারায়নতলা ও ডলুরা ক্যাম্পের সামনে দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারের মূল্যবান খনিজ সম্পদ এমনিভাবে লুটতরাজ করা হলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে ৫ আগষ্টের পর যারা ১০০০ কোটি টাকার বালি লুন্ঠন করেছে, মানুষের মুখে মুখে সেই মাফিয়া গোষ্ঠীর নাম। গত ২৫ দিনে বর্তমান বাজারদর মোতাবেক ২০০ কোটি টাকার খনিজ বালি লুন্ঠন হয়েছে বলে দাবী করেছেন জেলা পরিবেশ আন্দোলনের সহ-সভাপতি সাইফুল আলম ছদরুল । তিনি বলেন,২০১০ সালের বালি/ মাটি ব্যবস্থাপনা সংশোধিত ২০২৩ অনুযায়ী রাতে বালি উত্তোলন করা নিষিদ্ধ। তারপরও ২৫ অক্টোবর (শনিবার) ২৫ইং রাত থেকে ২৬ অক্টোবর রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রায় শতাধিক বাল্কহেড,ইঞ্জিন নৌকা ও পঙ্গপালে পুলিশ প্রশাসনের সামনে লিমপিডের কাগজ ছাড়াও নামে বেনামে লুটতরাজ করা হয়েছে ধোপাজান চলতি নদীর খনিজ বালি। সরকারের মূল্যবান খনিজ সম্পত্তি এমনিভাবে বেহাত হলেও জেলা প্রশাসনের কোন ভূমিকা পরিলক্ষিত হয়নি। শহরের কয়েকজন সাংবাদিক বলেন,আমরা শনিবার দিবাগত রাতে তেঘরিয়া ফেরিঘাটে ও ধোপাজান নদীর পাড়ে অবস্থান গ্রহন করে বালি লুটতরাজ হচ্ছে দেখে দফায় দফায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা জেরিনকে কল করি। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তাদের কেউই আমাদের ফোনকল রিসিভ করেননি। কারণ রাতের বেলা কল দিয়ে বালি লুটতরাজের খবর প্রশাসনকে জানালে তারা উল্টো সাংবাদিকদের উপর ক্ষুব্ধ হন। উপায়ান্তর না দেখে স্থানীয় লোকজন ৯৯৯ এ কল করে বালি লুটতরাজের কথা জানালে সদর থানা ওসি (তদন্ত) মোঃ আরিফ উল্লাহর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ধোপাজান নদীর পাড়ে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে টুকেরঘাট নৌপুলিশ ফাড়ির ওসি দিলিপ কুমার সাহার নেতৃত্বে নৌপুলিশ দলও নদীতে টহলে তৎপর ছিল। তারপরও বন্ধ হয়নি বালি লুটতরাজ। তবে নৌপুলিশ দল বালিবাহী ১০টি ইঞ্জিন নৌকা এবং সদর মডেল থানা পুলিশ দল ৫টি নৌকা শেষরাতে আটক দেখালেও এসব নৌকার মালিক বা বালি লুটতরাজকারীদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে উভয় পুলিশ প্রশাসন সুস্পষ্ট করে কোন সঠিক তথ্য প্রদান করছেনা। তবে প্রথম দফায় বালিবাহী যে ৩টি বাল্কহেড ধোপাজান হতে সুরমা নদীতে বের হয়ে যায় সেগুলো তিনজন সাংবাদিকদের বলে নিশ্চিত করেছে নৌপুলিশ।
সুনামগঞ্জ সদর থানা ওসি আবুল কালাম বলেন,ভিট বালির পরিবর্তে কেউ যদি খনিজ বালি উত্তোলন করে সেটা দেখবে জেলা প্রশাসন। এখানে পুলিশ প্রশাসনের করার কিছু নেই। ইব্রাহিমপুর গ্রামবাসী বলেন,জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ইজারাবিহিন ধোপাজান চলতি নদীর খনিজ সম্পদ লুটতরাজ করে যাচ্ছে স্থানীয় মুসলিমপুর গ্রামের তৈয়বুর রহমানের পুত্র ময়না মিয়া মনার নেতৃত্বাধীন হুরারকান্দা,বালাকান্দা ও মুসলিমপুর গ্রামের ৩০/৩৫ জনের একটি চিহ্নিত চোরাকারবারী সিন্ডিকেট। হুরারকান্দা গ্রামের পাশে নদীতে টহল দায়িত্বে থাকা পুলিশ ফোর্স বালি লুটতরাজকারীদের ধরপাকড় না করে উল্টো নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ময়না মিয়া মনা বলেন,আমরা বালি পাথর লুটতরাজের সাথে জড়িত নই। কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইব্রাহিমপুর সদরগড় ও অক্ষয়নগর গ্রামের লোকজন জানান,ইতিমধ্যে রাতের আধারে প্রায় শতাধিক ইঞ্জিন নৌকা ও বাল্কহেড অনধিকার প্রবেশ করিয়ে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে ধোপাজান চলতি নদীর বালি লুটতরাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে চোরাকারবারী সিন্ডিকেট। এ ব্যাপারে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্ঠাসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন উত্তর সুরমা পাড়ের স্থানীয় বাসিন্দারা।

২৬-১০-২৫


শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *