
মোঃ শাকিল আহমেদ, বামনা ( বরগুনা) প্রতিনিধিঃ
উপকূলীয় জনপদ বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনের গণমানুষের নেতা, চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মণিকে নবগঠিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখতে চায় স্থানীয় জনতা।
দক্ষিণ জনপদের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির কারিগর হিসেবে পরিচিত এই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের হাত ধরে বরগুনার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হবে-এমনটাই এখন জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের প্রধান আলোচনার বিষয়।
তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মতে, বরগুনার মতো অবহেলিত উপকূলীয় অঞ্চলের ভাগ্যোন্নয়নে একজন অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতার কোনো বিকল্প নেই। আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মণি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং তিনি উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের প্রতীক। অষ্টম জাতীয় সংসদে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর সফল দায়িত্ব পালন প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করার মতো যথেষ্ট দক্ষতা ও প্রজ্ঞা রয়েছে তার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্র নুরুল ইসলাম মণি তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে বারবার রেকর্ড গড়েছেন।
১৯৮৮ সালে তরুণ বয়সে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর ১৯৯১, ২০০১ এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ৮৯,৪৮২ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তাঁর এই ধারাবাহিক বিজয় প্রমাণ করে যে, দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর অবস্থান সুদৃঢ়।
বরগুনাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মণির হাত ধরে বঙ্গোপসাগরের বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হবে। স্থানীয় সুধী সমাজের মতে, সমুদ্র উপকূল ভিত্তিক ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার মাধ্যমে হাজারো বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব। যদি তিনি গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান, তবে বরগুনার অবকাঠামো, শিল্পায়ন এবং সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটবে। বিশেষ করে পায়রা বন্দর সংলগ্ন এই অঞ্চলে আধুনিক মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে তাঁর নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি।
আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মণির প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী মোঃ রুহুল আমিন জানিয়েছেন, দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার কথা বিবেচনা করে তাঁকে নৌপরিবহন, পানি সম্পদ, স্বরাষ্ট্র অথবা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এর মতো কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় জনগণের রক্ষাকবচ হিসেবে ‘পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়’ অথবা সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রসারে ‘নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়’ তাঁর জন্য সবচেয়ে উপযোগী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মণিকে অনেক চড়াই-উতরাই পার করতে হয়েছে। কোনো প্রতিকূলতাই তাঁকে তাঁর প্রিয় জন্মভূমি বরগুনার মানুষের কাছ থেকে দূরে সরাতে পারেনি। জেল-জুলুম উপেক্ষা করে তিনি সবসময় উপকূলীয় মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন।
বরগুনার সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, শহীদ জিয়ার আদর্শের এই সৈনিক যদি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান, তবে কেবল বরগুনা নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চল দেশের অর্থনীতিতে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
