তৌফিকুর রহমান তাহের সুনামগঞ্জ বিশেষ প্রতিনিধি,
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ছায়ার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। জমির প্রকৃত মালিক ও কৃষকদের বাদ দিয়ে বাঁধের আশেপাশে জমি নেই এমন ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠনের প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক ছায়ার হাওর উপ-প্রকল্পের অধীনে 'উজানগাঁও দাস হাটি হতে আনন্দয়া বাঁধ' পর্যন্ত মেরামত কাজের জন্য ৮৮ নম্বর পিআইসি গঠন করা হয়। গত ৩ জানুয়ারি উপজেলা প্রশাসনের তথ্য বাতায়নে প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, উক্ত কমিটিতে উজানগাঁও গ্রামের সোনাফর মিয়াকে সভাপতি এবং দৌলতপুর গ্রামের শীখ আহম্মদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
অভিযোগকারী কৃষক এহিয়া মিয়া ও নুরুল হক জানান, প্রস্তাবিত ৮৮ নম্বর বাঁধটি সম্পূর্ণভাবে তাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন রেকর্ডীয় জমির ওপর অবস্থিত। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, বাঁধ সংলগ্ন জমির মালিক ও প্রকৃত কৃষকদের কমিটিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও এক্ষেত্রে তা পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।
কৃষক এহিয়া মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "আমার নিজের জমির ওপর দিয়ে বাঁধ যাচ্ছে এবং আমার জমি থেকেই মাটি কেটে বাঁধের কাজ করতে হবে। অথচ আমাদের বাদ দিয়ে এমন ব্যক্তিদের কমিটিতে রাখা হয়েছে যাদের এই বাঁধের আশেপাশে কোনো জমিই নেই। আমরা সকল তথ্য-প্রমাণসহ আবেদন করার পরেও আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
একই ধরনের অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে উপজেলার ১ নং আটগাঁও ইউনিয়নেও। সেখানে কালিয়াকোটা হাওর উপ-প্রকল্পের ৯৯ নম্বর পিআইসিতে প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী মহলের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নীতিমালার তোয়াক্কা না করে একটি প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে এসব পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠন করায় বাঁধের স্থায়িত্ব এবং ফসল রক্ষা নিয়ে গভীর শঙ্কিত সাধারণ কৃষকরা। তাদের আশঙ্কা, অকৃষক ও বহিরাগতদের দিয়ে কাজ করালে বাঁধের গুণগত মান বজায় থাকবে না, যার ফলে সামান্য আকাল বন্যায় তাদের সারা বছরের স্বপ্ন তলিয়ে যেতে পারে। তারা অবিলম্বে বিতর্কিত এই কমিটি বাতিল করে প্রকৃত জমির মালিক ও কৃষকদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাল্লা উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী ওবায়দুল হকের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে উপজেলা বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "অভিযোগটি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কমিটি গঠনে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটে থাকলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
উল্লেখ্য, প্রতি বছরই সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বাঁধ নির্মাণে পিআইসি গঠন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। কৃষকদের দাবি, হাওরের ফসল রক্ষার স্বার্থে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সেলিম চৌধুরী হীরা কর্তৃক সম্পাদিত৷ https://www.dhurbar.com, ০১৯৭১-১০১৪২৯
Copyright © 2026 . All rights reserved.