লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
মাংসের নামে বাজারে আমরা আসলে কী খাচ্ছি, এমনই এক আশঙ্কাজনক ও উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে কুমিল্লার লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজারে চালানো প্রশাসনের এক অভিযানে। খাসির মাংসে ইনজেকশনের মাধ্যমে পানি পুশ করে ওজন বৃদ্ধি এবং ফ্রিজে রাখা বাসি মাংস তাজা বলে বিক্রির মতো মারাত্মক প্রতারণার অভিযোগে এক মাংস বিক্রেতাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র দৌলতগঞ্জ বাজারে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নার্গিস সুলতানা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দৌলতগঞ্জ বাজারের মাংসের দোকানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ক্রেতা ঠকানো ও অস্বাস্থ্যকর উপায়ে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠছিল। এর ওপর ভিত্তি করে শুক্রবার বাজারে খাসির মাংসের দোকানগুলোতে ঝটিকা তদারকি চালানো হয়। এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রসিকিউশনে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ দিয়ে খাসির মাংসে পানি পুশ করার হাতেনাতে প্রমাণ মেলে। এতে মাংসের কৃত্রিম ওজন বেড়ে যায়। পাশাপাশি ফ্রিজে থাকা অনেক আগের বাসি ও বাসি মাংসকে তাজা খাসির মাংস দাবি করে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়ে।
জনস্বার্থবিরোধী এসব প্রতারণার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট এক মাংস বিক্রেতাকে ভোক্তা অধিকার ও আইন অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে দণ্ড প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা জানান, “সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এবং ওজন ও গুণগত মান নিয়ে প্রতারণা করে কোনো ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না। খাদ্যে ভেজাল ও ক্রেতা ঠকানো রোধে লাকসামের প্রতিটি বাজারে এ ধরনের জনস্বার্থমুখী কঠোর অভিযান ও নজরদারি নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সেলিম চৌধুরী হীরা কর্তৃক সম্পাদিত৷ https://www.dhurbar.com, ০১৯৭১-১০১৪২৯
Copyright © 2026 . All rights reserved.