আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ: নওগাঁয় একটি মাদরাসার ১২ শিক্ষার্থী এইচআইভি (HIV) পজিটিভ—এমন দাবি ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম। তাঁর দাবি, বর্তমানে জেলায় এইচআইভি পজিটিভ রোগী রয়েছেন মাত্র তিনজন এবং ২০২৬ সালে নতুন করে কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল দাবি করেন, তাঁর এলাকায় ১২ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের সবাই মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং তাঁরা হোস্টেলে থাকেন।
সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে নওগাঁজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এ বিষয়ে বক্তব্য দেন নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম।.
https://youtu.be/SQz0BZUzWEE?feature=shared
সিভিল সার্জন বলেন, “নওগাঁয় ১২ মাদরাসা শিক্ষার্থী এইচআইভি পজিটিভ, এমন দাবি ভিত্তিহীন। জেলায় বর্তমানে এইচআইভি পজিটিভ রোগীর সংখ্যা মাত্র তিনজন। তারা সিভিল সার্জন অফিসের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং ভালো আছেন।”
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে নওগাঁয় তিনজনের এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছিল। ওই তিনজনই বর্তমানে জেলার শনাক্ত রোগী। ২০২৬ সালে নওগাঁয় নতুন করে কোনো ব্যক্তি এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হননি।
সিভিল সার্জন জানান, গত জুলাই মাসে নওগাঁয় ১২ জন ব্যক্তি রক্ত পরীক্ষা করার পাশাপাশি এইচআইভি পরীক্ষা করিয়েছিলেন। তবে তাঁদের কারও পরীক্ষার ফল নেগেটিভ না।
এদিকে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানা জানান, গত জুলাই মাসে উপজেলার ১২ জন ব্যক্তি রক্ত পরীক্ষার পাশাপাশি এইচআইভি পরীক্ষা করান। পরীক্ষায় তাঁদের সবার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল মুঠোফোনে বলেন, “১২ জনের মধ্যে তিনজন এইচআইভি পজিটিভ হয়েছে।” এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ফলে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সংসদ সদস্যের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় সঠিক তথ্য যাচাই করে প্রচারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সেলিম চৌধুরী হীরা কর্তৃক সম্পাদিত৷ https://www.dhurbar.com, ০১৯৭১-১০১৪২৯
Copyright © 2026 . All rights reserved.